Skip to content
Aside

মোঃ নুর রায়হান রিপন- এর ব্লগ

উন্মীলিত আঁখিজল 
বারবার বাতাসের কানে কথা বলে, 
উড়ো স্বপ্নের দ্যোদুল্লে পাশ কাটিয়ে চলা 
রজনীতে শুকতারা উঁকি দেয়, 
আমার মনের উঠোনে। 

নিশ্চুপ ঘোরকাঁটা সন্ধ্যায় আঁতকে উঠে 
শুক্লপক্ষের চাঁদ। বিজন বনে ডাহুক ডাকে
অক্লান্ত। হলুদ নদী সবুজ বনে লাইট
পোস্টের টিমটিমে আলোটা মানিয়ে যায়
গৃহিণীর শাড়ীর সাথে। 

এ বিছিয়ে পরা প্রকৃতি পসরা তলে প্রতি
ক্ষণে। দিয়ে যায় কর্তব্যের ব্যাবচ্ছেদ। 
উঠতি কল্পনার রং যেখানে অলিক 
কুহক। তবুও ভোর শেষ হয় না। 
ও থেকে যায় তটিনীর হেলানো তৃষ্ণায়।

Gallery

Mezba Uddin Gazi-র ব্লগ

আমাকে দেখাও তুমি দূরের আকাশ, ওই
দূরের পৃথিবী
আমি তো দেখতে চাই কাছের জীবন;
তুমি আমাকে দেখাতে চাও দূর নীহারিকা
সমুদ্র-সৈকত
বিস্তৃত দিগন্তরেখা, দূরের পাহাড়
তুমি চাও আরো দূরে, দূর দেশে
আমাকে দেখাতে কোনো রম্য দ্বীপ, স্নিগ্ধ জলাশয়
আমি চাই কেবল দেখতে এই চেনা সরোবর,
কাছের নদীটি।
আমাকে দেখাতে চাও বিশাল জগৎ, নিয়ে যেতে
চাও অনন্তের কাছে
আমার দৃষ্টি খুবই সীমাবদ্ধ-
অতো দূরে যায় না আমার চোখ;
কেবল দেখতে চাই জীবনের কাছাকাছি
যেসব অঞ্চল-
দূরের নক্ষত্র থাক তুমি এই নিকটের মানচিত্র
আমাকে দেখাও;
দেখাও নদীর কুল, চালের কুমড়োলতা,
বাড়ির উঠোন
দূরের রহস্য নয়, কেবল বুঝতে চাই
তোমার হৃদয়।

-মহাদেব সাহা

 

Mezba Uddin Gazi-র ব্লগ

রাত তিনটা । সমগ্র শহর ঘুমিয়ে গেছে ।রুদ্র সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার বই পড়ছে সোফায় শুয়ে শুয়ে । হাতে টিভির রিমোট ।মাঝে মাঝে টিভির চ্যানেল পালটাচ্ছে । আজ মনটা খুব খারাপ । ইদানিং 
অকারনেই মন খারাপ হয়ে যায় ।
-কিরে রুদ্র ? এখনও ঘুমাসনি ?
-নাহ মা ।মনটা ভালো না 
-কেন বাবা ? কি হইছে তোর ?
-কিছুনা মা ।এমনি মনটা ভালো না 
-দেখ রুদ্র ! আমি জানি তুই অনেক একাকী ফীল করতেছিস ।তোকে কতবার বলেছি জীবনটা নতুন ভাবে শুরু কর 
-নাহ মা ।আমি শুভ্রাকে কখনো ভুলতে পারবোনা 
-কিন্তু বাবা ! তোর মেয়ের কথা চিন্তা কর ।আমি বুড়ো মানুষ । তুই সারাদিন অফিসে থাকিস । মেয়েটা সারাদিন একা একা বাসায় থাকে ।ভাত খাওয়াতে গেলে কখনো খাবে না । শুধু মাত্র প্রতি লোকমাতে বলতে
হয় এটা তোমার আম্মুর লোকমা ।তখন খাবে 
-হা হা । কেন মা ? আমার নামে লোকমা খায় না ?
– নাহ । রেগে মেগে অস্থির হয়ে যায় । বলে বাবা পচা । সারাদিন অফিসে থাকে । আমাকে একটুও ভালবাসে না 
– হা হা । 
-শোন রুদ্র ! শানু মেয়েটা অনেক সুন্দর । লক্ষ্মী একটা মেয়ে । আমি চাই তুই ওকে বিয়ে কর
-মা প্লীজ ! তুমি যদি আর কখনো এমন কথা বলো তাহলে আমি আমার মেয়েকে নিয়ে সব কিছু ছেড়ে দিয়ে অনেক দূরে চলে যাবো বলে দিলাম
আমার জন্য আমার মেয়েই যথেষ্ট আর ওর জন্য আমি । ও শুভ্রা আর আমার ভালোবাসার প্রতীক । তাই আমি চাই না আমাদের মাঝে আর অন্য কেউ আসুক 
-ঠিক আছে বাবা ।তুই যা ভালো মনে করিস । আমি ঘুমাতে গেলাম । আর এত রাত জাগিস না । রাত জেগে জেগে কি হাল করেছিস নিজের ! একবার ও দেখেছিস ? মেয়ের ভালো চাইলে নিজের প্রতি যত্ন
নিতে হবে ।এখন ঘুমাতে যা 
-ঠিক আছে মা
রুদ্র টিভি অফ করে বিন্তির রুমে যায় । মেয়েটার পাশে তিনটা ছোট টেডি বিয়ার পাশাপাশি শোয়ানো । মাঝখানের টা বেশি ছোট । রুদ্রর চোখে পানি চলে আসলো । মাঝে মাঝে খুব রাগ হয়ে খোদার প্রতি ।
এই বাচ্চা মেয়েটা কি দোষ করেছে যে এত কম বয়সে মাকে হারাতে হলো ।কি নিষ্পাপ ফুটফুটে মুখ ! দুষ্ট পরী একটা । মেয়ের চুলে হাত বুলিয়ে কপালে একটা চুমু খেয়ে উঠে দাড়ায় রুদ্র । নাহ ! ঘুমুতে 
যাচ্ছে নাহ সে , আজ সারারাত বারান্দাতে দাড়িয়ে জ্যোৎস্না দেখবে রুদ্র ………………।।
(মেজবা,৩০ ই মে , ২০১৩

মোঃ নুর রায়হান রিপন- এর ব্লগ

একজন লেখক আর একজন সাধারণ মানুষের মাঝে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হল চিন্তা-ভাবনা। 

একজন লেখক ক্ষুদ্র, অপ্রয়োজনীয় একটা বিষয়কে অপূর্ব শব্দভাণ্ডার দিয়ে পাঠকের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। 

আর সাধারণ কিছু মানুষের মনে চমৎকার সব গল্পের পটভূমি ঘুরলেও তারা সেই কথাগুলো প্রকাশ করতে পারে না।

অনেকেই লেখকদের পছন্দ করে না। 

কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না। এ সমাজে লেখকদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। 
আপনারা লেখক ছাড়া

মোঃ নুর রায়হান রিপন- এর ব্লগ

তোমাকে আজ দারুণ লাগছে। আবারও তোমায় প্রপোজ করতে ইচ্ছে করছে। 
তাই নাকি? সূর্য আজ কোনদিকে উঠেছে? মুখ টিপে হেসে বলে শশী। 
ঢের হয়েছে বলাবলি। নাও। এখন নুডলস খাও তো। 

কাঁটা চামচে শশী আমায় তুলে তুলে নুডলস খাওয়ায়। একদিন বলেছিলাম তাঁকে যে আমার নুডলস অনেক পছন্দের। সেই থেকে শুরু। এরপর হাজার ব্যস্ততার মাঝেও আমার জন্য নুডলস রান্না করতে ভুলে না সে। আর তার হাতের নুডলস খেতে খেতে এমন অভ্যাস আমার হয়ে গেছে যে ওর হাতের নুডলস ছাড়া আর কোনো নুডলস ই আমার ভালো লাগে না। সত্যি বলতে কী আমার মনে হয় ওই পৃথিবীর সবচেয়ে চমৎকার নুডলস রান্না করতে পারে। 

ঝাল ঠিক আছে তো? প্রতিদিনকার অভ্যাসমতো এ কথা ওর বলা চাই ই চাই। আমি অবশ্য একটু ঝাল বেশি খাই কী না। ও ঠিক বিপরীত। ঝাল মোটেও সহ্য করতে পারে না। আমি বলি হ্যাঁ ঝাল ঠিক আছে। ওর মুখে স্বস্তির ছাপ পড়ে। ঝাল না হলে ওর কাছে পৃথিবীটা নাকি অর্থশূন্য মনে হয়। 

আর তাই মাঝে মাঝে এত ঝাল দেয় , খেলে আমার যেন জিহ্বা পুড়ে যায়। আর সেদিনই মনে হয় ও সবথেকে খুশি হয়। 
ইয়েস, আমি পেরেছি তোমাকে ঝাল লাগাতে। ইয়েস। আহা কী উচ্ছল হাসি। ও হাসির জন্য আমার জিহ্বা বারবার পোড়াতেও এক পায়ে খাড়া আমি। 

এই খাওয়ার সময়টুকুতেই কত যে রোমান্টিক কথা বলা হয়ে যায়। তোমার দুলটা আজ চমৎকার লাগছে। ও চোখে আর কাজল পরো না। নজর লাগবে। ওই নাক বোঁচা, বেশি কথা না বলে খা তো। খেয়ে আমায় উদ্ধার কর। 

ছোট ছোট অনেক স্মৃতিই মাঝে মাঝে ভীষণ মিস করি। ইদানিং তোমার হাতের নুডলস ও অনেক মিস করি আমি। আর মিস করি তোমার সেই খুশি ভরা মুখ। প্রতিটা ইয়েস বলার সাথে সাথে আমিও যে অনেক খুশি হই। তোমার ওই হাসিভরা মুখটা যে ভীষণ মিস করি। 

অপেক্ষার প্রহর গুনছি, আবার সেই মোহময় সময়ের জন্য