Skip to content

Mezba Uddin Gazi-র ব্লগ

June 3, 2013

শুভ্রা বুঝতে পারছে রুদ্রের সাথে তার ধীরে ধীরে একটা দুরুত্ব সৃষ্টি হচ্ছে ।যে রুদ্র তাকে পাওয়ার জন্য দিনের পর দিন পাগলের মত ছুটতো, সারারাত জেগে কবিতা লিখতো সেই রুদ্র এখন শুভ্রাকে আগের
মত কেয়ার করেনা । ঠিক মত ফোন করেনা । মাঝে মাঝে শুভ্রা ফোন দিলেও ইচ্ছে করে রিসিভ করেনা ।যদিও রুদ্র সবকিছুর পিছনে কোনো না কোনো অজুহাত দেখায় কিন্তু শুভ্রা বুঝতে পারছে এই রুদ্র 
আর আগের রুদ্রটি নেই ।নাহ ! এভাবে আর কতদিন? তাকে একটা কঠিন সিদ্ধান্তে আসতেই হবে ।শুভ্রা রুদ্রকে ফোন দেয় 
-হ্যালো
-হ্যালো ।শুভ্রা !কেমন আছো তুমি ?
-কি আমাকে চিনতে পারছো ?
-কি বলো এসব ? তোমার সাথে তো গতকাল ও কথা হলো 
-গতকাল কথা হয়নি । শুধু মাত্র একটা এস এম এস দিয়েছিলে তুমি ।রুদ্র ! খুব গুরুত্ব পূর্ণ কিছু কথা বলার আছে ।কাল বিকেল পাঁচটায় চন্দ্রিমা উদ্যানে দেখা হবে ।রাখি ।বাই ।
রুদ্র কিছু বলার আগেই শুভ্রা ফোন রেখে দিলো 
( পরের দিন বিকেল পাঁচটা )
-শুভ্রা ! তোমাকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে ।
-রুদ্র !আমি খুব সাধারন একটা মেয়ে ।আমার খুব বেশি চাহিদা নেই । আমার ভালোবাসার মানুষটি আমাকে অনেক বেশি ভালবাসবে ।এর থেকে বেশি কিছু চাই না ।কিন্তু তুমি ইদানিং আমাকে অ্যাভয়েড
করছো ।হয়তো আমি এখন তোমার কাছে বোরিং হয়ে গেছি ।তাই আমি চাচ্ছি তোমাকে এই বোরিং কন্ডিশন থেকে মুক্তি দিতে ।হয়তো আজকের পর আমাদের আর কোনদিন দেখা কিম্বা কথা হবে না 
-এসব কি বলছো শুভ্রা ? দেখো ! আমি একটা পত্রিকায় লিখালিখির কাজ পেয়েছি ।তাই কিছুটা ব্যস্ত থাকতে হয় । আমি তোমাকে অ্যাভয়েড করছিনা ।এটা তোমার মনের ভুল 
-শোনো ! এসব ফালতু যুক্তি । গার্লফ্রেন্ডকে দিনে অন্তত একবার ও যদি ফোন দিতে না পারো তাহলে রিলেশন করার কোনো মানে নেই ।তোমার তো ইদানিং মেয়ে ভক্ত ও বেড়ে গেছে ।রিমি নামে একটা মেয়ে 
তোমাকে রাতে ফোন দিয়ে কবিতা শোনে তাও আমি জানি । অস্বীকার করতে পারবা ?
-না করছিনা । কিন্তু ও মাত্র তিন চার দিন আমাকে ফোন দিয়েছিল ।ওর মন খুব খারাপ ছিল বলে মাত্র একদিন ওকে কবিতা শুনিয়েছিলাম ।তাও অনেক জোরাজুরি করেছিল বলে ।
-রুদ্র ! তুমি ধরা খেয়ে গেছো । তোমার সাথে আমি আর সম্পর্ক রাখতে চাচ্ছিনা ।আই থিংক ইটস নট ওয়ারকিং অ্যানিমোর ……খোদা হাফেয 
-জানো শুভ্রা !যেদিন তোমাকে প্রথম দেখেছিলাম তখন যেমন ভালবাসতাম এখন তার থেকেও হাজার গুন বেশি ভালোবাসি ।তাইতো তোমার উপর অনেক খানি নির্ভার হয়েছিলাম। যে কোনো অবস্থায়ই তুমি 
আমাকে বুঝবে এটাই আমার বিশ্বাস ছিল তোমার প্রতি ।খুব কষ্ট লাগছে এই ভেবে যে তুমি আমাকে এতদিন পর ও বুঝতে পারলে না । যাই হোক ভালো থেকো বন্ধু ! অনেক অনেক ভালো ।
রুদ্র শুভ্রাকে পিছনে রেখে হাঁটা শুরু করলো ।রুদ্রর চোখ পানিতে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে ।বুকের মধ্যে খুব মোচড় দিচ্ছে । এত কষ্ট হচ্ছে কেন ?
রুদ্র ধড়মড় করে ঘুম থেকে জেগে উঠলো ।ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে ।বোতলের ছিপি খুলে ঢকঢক করে পানি খাচ্ছে সে ।কি ভয়াবহ স্বপ্ন !কখনো সে এমন হতে দেবে না । এখন শুভ্রা কে ফোন 
দেবে সে ।ভোর হওয়া পর্যন্ত সারারাত কথা বলবে পাগলীটার সাথে ………………।।

Advertisements
Leave a Comment

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: