Skip to content

“চোখের ভাষা ” – Mezba Uddin Gazi-র ব্লগ

June 2, 2013

                                                                   (১)

ধ্যাত ! কিছুদিন যাবৎ আনিশাকে নিয়ে এত ভাবছি কেন ? ক্লাস করার ফাঁকে ফাঁকে ওর দিকে তাকানো আমার নিত্য দিনের অভ্যাসে পরিনত হয়েছে । মাঝে মাঝে ওর সাথে আমার চোখাচোখি হলে  যত দ্রুত সম্ভব চোখ সরিয়ে নেই । ইঞ্জিনিয়ারিং পরার যোগ্যতা আমার কখনই ছিলনা । স্কুল ,কলেজ লাইফে বরাবরই নরমাল ছাত্র ছিলাম কিন্তু কিভাবে যে চাঞ্ছ পেলাম ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটিতে সেটাই বুঝলাম না । নাহ, শিক্ষামন্ত্রীকে  বলতে হবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে । কিছুই বুঝিনা ক্লাসে ।কয়েকদিন খুব মনোযোগ দিয়ে লেকচার বোঝার চেষ্টা করছি কিন্তু একটু বেখেয়াল হলেই আর ধরতে পারিনা । যেখানে স্যার কি বলছে তাই বুঝিনা সেখানে যখন কিছু পোলাপাইন স্যারকে লেকচার এর উপর প্রশ্ন করে বসে তখন সত্যিই নিজেকে খুব অসহায় লাগে । এমনি ক্লাসে মনোযোগ নাই তার মধ্যে আবার আনিশা ! ইশ! মেয়েটা যদি একবার বুঝে যায় আমি ওর দিকে তাকিয়ে থাকি তাহলে ডিপার্টমেন্টে আর মুখ দেখাতে পারবোনা। যতদূর জানি কোন  ছেলে ক্যামন ,এসব নিয়ে মেয়েরাও নিজেদের মধ্যে অনেক হাসাহাসি করে আর আমি এম্নিতেই ক্লাসে কেব্লাকান্ত নামে পরিচিত তাই আনিশার মতো এত সুন্দর একটা মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকি বেপারটা জানাজানি হলে আর কাউকে কষ্ট করে মিরাক্কেল দেখা লাগবেনা ।আসলে আমার কি দোষ ? জনৈক জ্ঞানী বলেছেন , বৎস ! আশা করিলে উত্তম আশাই করো ।

                                                                        (২)

আজও তাকিয়ে আছি আনিশার দিকে । সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে আনিশাও দুই তিনবার তাকিয়েছে । তবে এটা কি আসলেই মজার ব্যাপার কিনা তাও জানিনা । তবে যতবারই ওর সাথে আমার চোখাচোখি হয় বুকের মধ্যে ক্যামন জানি একটা  ধাক্কা লাগে । নাহ!  এভাবে আর কতদিন ? যেভাবেই হোক ওর সাথে আমাকে কথা বলতেই হবে ।মনের সকল সাহস একত্রিত করে এগিয়ে গেলাম আনিশার দিকে । আনিশা , শোন  ! আনিশা খাতায় নিচু হয়ে কি যেন লেখছিল । খুব শান্তভাবে লেখাটি বন্ধ করে আমার দিকে তাকিয়ে বলল , কি ? বল ? আমি তখন এত নার্ভাস ফীল করলাম যে আমার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল ।তবুও অনেক কষ্টে বললাম , আসলে আমার আগামীকাল জন্মদিন । তাই একটা ছোটো পার্টির আয়োজন করছি “অভিলাষ ” ফাস্টফুডে ।তুই যদি আসিস তাহলে অনেক খুশী হবো । আনিশা একটু মুচকি হাসি দিয়ে বলল; ক্লাস এর সবাইকেই ইনভাইট করসিস  নাকি ? আমি নাবোধক মাথা ঝুঁকলাম । আনিশা বলল , আচ্ছা দেখি চেষ্টা করব যেতে ।আমি বললাম , বিকাল ৫ টায় কিন্তু কেক কাটবো , তুই চলে আসিস ।  আমি আনিশাকে জিজ্ঞেস  করলাম ,তুই  আমার মোবাইল নম্বর জানিস তো  ? আনিশা হেসে বলল , নাহ ,জানিনা । আমি নম্বর দিয়ে বললাম , কোনো প্রয়োজন হলে একটা কল দিস  ।

                                                                                (৩)

৫ টা বাজলো । আমার সাত আট জন বন্ধু আর আমি “অভিলাষ ” ফাস্টফুডে  কেক নিয়ে বসে আছি । রাহাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, দোস্ত আমার মনে হয়না ও আসবে । জীবনে কোনদিন ওর সাথে কথাও বলিসনি তুই আর তোর প্রথম রেকুএস্টই কি রাখবে ? মেয়েরা এত সিম্পল না রে দোস্ত ।ওদের চিন্তা ভাবনা জটিল এবং কঠিন । আমি এক রাশ আশা নিয়ে কাঁচের জানালা দিয়ে বাইরে রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছি । আর বিজ্ঞের মতো বললাম ;নাহ দোস্ত ! আমার মন বলছে ও আসবেই! কিন্ত এটা তো আর গল্প সিনেমা নয় যে নায়িকা শেষ সময়ে এসে হাজির হবে । কিছক্ষন পর এক বন্ধু বলে ওঠে দোস্ত আমার একটু পর টিউশনি আছে ।কেক কাটলে কাট নাইলে জাইগা । কি আর করা এক প্রকার মন খারাপ করেই কেক কাটলাম । কতটুকু যে মন খারাপ হয়েছিল পরে যখন ফেইসবুকে পিকচার আপলোড দিয়েছিলাম তখন বুঝেছিলাম ।নিজেকে দেখে মনে হচ্ছিল একটু পর আমার ফাঁসি হতে যাচ্ছে । সেদিন রাতে মন খারাপ করে আমাদের ক্যাম্পাসের দীঘির পাড়ে বসে আছি ।জায়গাটা খুব নিরিবিলি বলে আমার যখন মন খুব খারাপ থাকে তখন এখানে এসে বসে থাকি । সেদিন রাতে আকাশে অনেক তারা ছিল ।আর চাঁদ টা একটু পর পর মেঘের আড়ালে লুকোচুরি খেলছিল ।তারাগুলোকে দেখে মনে হচ্ছিল এক একটা ফানুশ ।হঠাৎ আমার মোবাইলটা ভাইব্রেট করে উঠলো । দেখি আননউন নম্বর থেকে একটা ম্যাসেজ এসেছে ।ম্যাসেজে লেখা “sorry!আসলে একা একা তোর বার্থডে পার্টিতে যাওয়া ক্যামন জানি দ্যাখায় ।তাই যাওয়া হয়নি । মন খারাপ করিস না । বুঝতে বাকি রইলনা কার ম্যাসেজ এটি । যাক প্রাপ্তির খাতায় এতটুকু যে আমার সপ্ন রানীর ফোন নম্বর এখন আমার জানা ।

                                                                                      (৪)

ক্লাসে মোটামুটি কানাঘুষা হয়ে গেছে যে আমি আনিশাকে ভালোবাসি ।আনিশার সাথে আমার যদিও প্রতিদিনই ফোনে কথা হয় কিন্তু কোনদিন নরমাল বন্ধুত্তের বাইরে অন্য ধরনের কথা হয়নি । যখনি একটু বাঁদরামি করতে যেতাম তখনি কড়া শাসন ,হুমকি , মাঝে মাঝে শাস্তিও পেতে হত ।শাস্তি গুলো ছিল একদিন থেকে শুরু করে একমাস কথা না বলা । প্রত্যেকবারই অনেক উল্টা সোজা বুঝিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেই । এভাবেই চলতে থাকে আমাদের বন্ধুত্ব । একবার আনিশা আমাকে বলল , দোস্ত শোন ! আমাকে নিয়ে অন্য কিছু ভাবিস নাতো আবার ? আমি কিছুটা ঢোক গিলে বলি , আরে ধুর !আমি কি কখনো এসব কিছু বলেছি ? আমার সাথে তোর কি যায় ? তোর মতো এতো সুন্দরী মেয়ে কি আর আমার মতো হাদারামের জিএফ হবে ! তখন আনিশার কণ্ঠে পরিতৃপ্তির সুর , আমি সুন্দরী ? তোকে কে বলছে ?

                                                                                           (৫)

আজ ভ্যালেন্টাইন ডে । তাই ক্লাস শেষে আনিশার সামনে গিয়ে ওকে সরাসরি প্রপস ই করে বসলাম । ফল তো কিছুই হলো না ।যা হল সব সাইড ইফেক্ট । মেয়ে সুন্দর করে আমাকে বলল , আজকের দিনটা তোর জন্য খুব স্পেসিয়াল ,তুই কি জানিস ? আমি না বুঝেই একটা ভ্যাবলা মার্কা হাসি দিলাম । মনে মনে ভাবলাম ,যাক মেয়ে অবশেষে রাজি হইছে । তারপর আনিশা আমাকে অবাক করে দিয়ে বলল , আজ থেকে তোর সাথে আমার সকল ধরনের কথা বার্তা বন্ধ ।বুজছিস? আমার হাসি এক নিমিষে মিলিয়ে গেল ।অম্লান বদনে বললাম বুজছি ।এরপর আর কোনো বুঝেই সে বোঝেনা । কতবার ক্ষমা চাইলাম , লোকচক্ষুর অন্তরালে কান ধরলাম কিছুতেই কিছু আসে যায় না । পাথর মানবীর মন কিছুতেই গললো না । বন্ধুরা পরামর্শ দিলো আনিশার বার্থডেতে স্পেসিয়াল কিছু করতে । ওর বার্থডে রাত ১২ টায় ওর হল এর সামনে গিয়ে মোম দিয়ে ” happy birthday to dear anisha ” লিখলাম ।কিন্তু বদমাশ  বাতাস টাই সব গরমিল করে দিচ্ছিল ।একটু পর পর এক একটা মোমের আগুন নিভে যাচ্ছিল । সেই আগুন জ্বলাতে ব্যস্ত ও চিন্তিত আমার মুখখানা কি একবার ও আনিশা দেখেছিলো কিনা জানিনা । তবে পরের দিন আনিশা আমাকে একটু হাসি মুখে বলল , আচ্ছা এসব পাগলামির মানে কি ?আমি ভাবলাম, মেয়ে আমার সাথে কতদিন পর কথা বলল । এই তো সুযোগ এইবার আমাকে পরের ধাপে আগাতে হবে । ক্লাস শেষে আমি আনিশাকে বলি , দোস্ত ! তুই তো আমার সাথে বন্ধুত্ব আর করবিনা ,তাইনা ? তাহলে শুধু আমার একটা অনুরোধ রাখবি ?আনিশা বলে ,হুম আমার সাথে বন্ধু হতে চাওয়া ছাড়া অন্য কোনো অনুরোধ রাখার চেষ্টা করবো। আমি বললাম , তাহলে দোস্ত ;শেষ বার এর মতো আমি তোর সাথে আজ সারদিন ঘুরতে চাই । এরপর আর কোনদিন তোর বন্ধু হতে চাইবনা ,কথা দিলাম । আনিশা কি বলবে বুজতে পারছেনা ।আর আমি নাছোড় বান্দার মতো pz plz plz বলেই যাচ্ছি ।অবশেষে আনিশা রাজি হলো।

                                                                                     (৬)

জীবনে ছোটবেলা থেকে একটা ইচ্ছা ছিল আমি বিয়ে করে ঘোড়ার টমটম গাড়িতে করে বউ নিয়ে আসবো ।কিন্তু বিয়ের আগেই যে কাউকে নিয়ে  টমটম গাড়িতে চড়তে হবে বুঝিনি । আইডিয়াটা গতকাল রাতে করা । গাড়িতে আনিশা ;আমি আর কিছু রঙ্গিন কাগজে মোড়ানো গিফট । একটা একটা করে হাতে দিচ্ছি আনিশার আর আনিশা অবাক চোখে খুলে দেখছে । প্রথম  গিফট বক্স খুলে দেখল ওর প্রিয় জীবনান্দ দাশের  কবিতা সমগ্রের বই ।বইটা হাতে নিয়ে  আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল । এরপর একে একে এক জোড়া কানের দুল;পায়েল , গোল্ডেন কালার এর  ঘড়ি ;একটা সাদা পরীর পুতুল ; আরেকটা সোপীচ ছিল যেটাতে একটা রাজকুমার আর একটা রাজকুমারি একটা সাদা ছাতার নিচে একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে আর তাদের চারপাশে তুষার পাত হচ্ছে ( এই সোপীচ টা আমার এক ছাত্রী আমাকে একসময় গিফট করেছিল ,তাই সেই ছাত্রির কাছে মনে মনে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি  );রঙ বেরঙ এর বেলুন আর কার্টুন ছিলও সর্বশেষ আকর্ষণ । বেলুন ফুলাতে গিয়ে আবিস্কার করলাম ,জীবনে একটা ব্যাপারে আমি ভালই পারদর্শী ।আনিশাকে নিয়ে রয়্যাল চাইনিছ রেস্তোরাতে গেলাম ।সেখানে কেক কাটলাম আর লাঞ্চ করলাম । তারপর আসার সময় ওর হাতে এক গুচ্ছ গোলাপ আর  একটা চিরকুট ধরিয়ে দিলাম । চিরকুটে লেখা ছিল

                                                                            শুনেছি আমারে ভালই লাগে না,

 

                                                                            নাই বা লাগিল তোর,

 

                                                                           কঠিন বাঁধনে চড়ন বেড়িয়া

 

                                                                            চিরকাল তোরে রব আঁকড়িয়া

 

                                                                          লোহার শিকল ডোর।

 

                                                                             তুই তো আমার বন্দী অভাগিনী

 

                                                                              বাঁধিয়াছি কারাগারে,

                                                                          প্রাণের শৃঙ্খল দিয়েছি প্রাণেতে

 

                                                                          দেখি কে খুলিতে পারে”। …………..

                                                                                 (৭)

আমি এখন আর ওর দিকে আড়চোখে তাকাইনা । আসলে সত্যি কথা বলতে কি আড় চোখে আর তাকানো লাগেনা ।কারন একে অপরের দিকে আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এম্নিতেই তাকিয়ে থাকি ……………………………………………………………………।

Bangla

Bangla (Photo credit: Wikipedia)

Advertisements
Leave a Comment

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: