Skip to content
Gallery

হিমু প্রেমে পড়েছে-Mezba Uddin Gazi-র ব্লগ

 

আজ রুপার ভালোবাসা প্রথম বার এর মত আমাকে পরাজিত করেছে

এখন নিজেই এসে দাড়িয়ে থাকি নীল টিপ আর নীল শারি পরিহিত রুপাকে দেখতে

ভালোবাসা শুন্য এই হৃদয় আজ ভালোবাসার ঝড়ে লণ্ডভণ্ড

আমার গায়ে আজ হলুদ পাঞ্জাবীর বদলে রুপার দেয়া লাল পাঞ্জাবী

আমি আজ শুন্য পায়ে হাটছিনা , বাটার স্যান্ডেল শোভা পাচ্ছে পায়ে

এখন আর একা একা নয় সবুজ বনে জ্যোৎস্না দেখার সময় রুপাকে পাশে অনুভব করি

সর্বদা হৃদয়ের দরজা বন্ধ করে রাখি যেন তক্ষক এসে ভালোবাসা চুরি করে নিয়ে যেতে না পারে

বাদলকে শিখিয়েছি গাছ নয় , ভালোবাসাকে জরিয়ে ধরে রাখলেই সব রোগ সেরে যায়

ফুটপাথের কোনো অন্ধ ফকিরের পাশে বসে আজ ভালোবাসা ভিক্ষা করি

খালুকে আজ মদের বদলে ভালোবাসার নেশা ধরিয়ে দিয়েছি

মাজেদা খালার কণ্ঠে আজ রাগ নয়, ভালোবাসার সুর খুঁজে পাই

এক মাত্র ভালোবাসার ভবিষ্যৎ আমি বলতে পারিনা , ভালবাসাকে আমি অবাক করে দিতে পারিনা

নীল টয়োটা গাড়িতে করে সানগ্লাস পড়া কোনো অপ্সরী নয় ,ভালোবাসাই শুধু মাত্র আমাকে অনুসরণ করে

আমার ছাত্র আঙ্গুল কাটা জগলু আজ ভালোবাসা কে মুক্তিপন হিসেবে দাবি করে

রুপার ফোন নয় , ভালোবাসার তদবিরে এখন রমনা থানা থেকে মুক্তি পাই আমি

এখন আমি তেলাপোকার স্যুপ নয় ,ভালোবাসার স্যুপ খাই

আমি  মায়া নামক অনুভূতির শৃঙ্খলে বন্দী হয়ে গেছি আজ

আমাকে মহাপুরুষ বানাবার বাবার সকল চেষ্টা নস্যাৎ হয়ে গেছে

আমি এখন কল্পনাতে দেখি বাবা মায়ের কাছে ক্ষমা চাচ্ছে তাকে হত্যা করার জন্য

আর মা বাবার দিকে তাকিয়ে হাসছে কারন ছেলে হিমালয় তার বাবার পাগলামিকে জয় করে ভালবাসতে শিখেছে …………

(মেজবা , ৩ ই জুন ,২০১৩

 

Advertisements
Gallery

জীবনের টানাপোড়েন- মোঃ নুর রায়হান রিপন :এর ব্লগ

ছেলেটি বারবার আকাশ দেখে।

৫ ফুট ৮ ইঞ্চি লম্বা শ্যামলা বর্ণের ছেলেটি। নাম কথক। ঠিক কথকের মতই ওর চপলতা।চারিদিকে সবসময় হইহুল্লোড় করে বেড়ানো ছিল তার নেশা। কিন্তু শেষ  পর্যন্ত সে পরাজিত হয়েছিলো জীবনের কাছে। যুদ্ধে হেরে যাওয়া বাস্তবতার এক রূপরেখা  হয়ে উঠে সে।
সফলতার কোন গণ্ডিটিকে ছোঁয় নি সে? স্কুলে ভর্তি থেকে শুরু করে কলেজ জীবনের প্রতিটাতেই সাফল্যের সাক্ষর রেখেছিল সে।

পোর খাওয়া পিতার তাড়া খেয়ে মায়ের কাছে মুখ লুকিয়ে কাঁদত ছেলেটি। অসাধারণ প্রতিভাবান ছিল।

মাঝরাতে যখন সবাই ঘুমে বিভোর ছিল, তখনও ছেলেটি একটানা কবিতা মুখস্ত করে যেত। ” টুইংকেল টুইংকেল …………………. ”
কতই বা বয়স ছিল তখন।
তিন এর বেশি নয়।
স্কুলে ভর্তি হবার আগেই দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত সব কবিতা কণ্ঠস্থ ছিল। যে বয়সে ছেলেরা ১ আর ১ যোগ করলে কত হয় তা বলতে পারত না সে বয়সে সেই ছেলেটি সরল অংক করত।

কথকের বাবা ছিল নেশায় বুঁদ হয়ে যাওয়া জুয়াড়ি। পড়াশোনার বালাই নেই, তাই কথককে তার বাবার অভিশপ্ত দৃষ্টির বাইরে থাকতে হতো সবসময়।

আর ঠিক এ কারণেই কথক পড়ত মাঝরাতে, যখন চাঁদ পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়তো, ঝিঁঝিঁপোকারা ডাকে মত্ত থাকতো।

পঞ্চম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষায় ছেলেটি জেলায় প্রথম হল। ঠিক তখনই ছেলেটির প্রতি সবার নজর পড়ল। স্কুলের শিক্ষক, এলাকার গণ্যমান্যরা কথকের বাবাকে বুঝাতে লাগলো কথক যেন পড়াশুনা চালিয়ে যেতে থাকে।

কিন্তু তার বাবা নির্বিকার। এলাকার চেয়ারম্যান পর্যন্ত তার বাবাকে বোঝাতে পারে নি। কথককে পড়াশুনা করতে দেখলেই তার গায়ে হাত উঠত। তাকে বাসা থেকে বের করেও দেয়া হয়েছিল রোজগার করে না বলে। তবুও কথক পড়েছিল,অস্তিত্তের লড়াই করেছিল শেষ পর্যন্ত।

প্রথম যেদিন বৃত্তির টাকাটা হাতে পেয়েছিলো কথক, সেদিন তার মায়ের খুশিতে কথক ভুলে গিয়েছিলো তার কষ্টের কথা। কিন্তু বিধি মনে হয় এই সুখ সয় নি। ছোঁ মেরে কথকের বাবা টাকাটা নিয়ে গেছিলো নেশায় বুঁদ হতে।

এরপর…………………………

জল অনেক ঘোলা হয়েছিল। জীবনের প্রতিটা পরীক্ষায় সে প্রথম হয়েছিলো। এমনকি বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায়ও সে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়।

কিন্তু তারপর………………………

অভিমান পেয়ে বসে কথকের। তার নিজের প্রতি, বাবার প্রতি।

বন্ধুমহল, শিক্ষক, সবার বোঝানো সত্ত্বেও নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে ছেলেটি। প্রথম দু বছরে একটা বিষয়ও পাশ করতে পারে নি কথক। তাই বাধ্য হয়ে বুয়েট থেকে তাকে বের করে দেয়া হয়।

তাই কথক আকাশ দেখে বারবার। এছাড়া ওর যে আর কিছুই করার নেই।

আমাদের চারপাশে এমন অনেক কথক আছে। যারা সম্ভাবনা ছড়িয়ে হারিয়ে যায় কালের অতলে।

কিন্তু দায়ী কে?

ভাগ্য?

প্রকৃতি?

Gallery

Mezba Uddin Gazi-র ব্লগ

শুভ্রা বুঝতে পারছে রুদ্রের সাথে তার ধীরে ধীরে একটা দুরুত্ব সৃষ্টি হচ্ছে ।যে রুদ্র তাকে পাওয়ার জন্য দিনের পর দিন পাগলের মত ছুটতো, সারারাত জেগে কবিতা লিখতো সেই রুদ্র এখন শুভ্রাকে আগের
মত কেয়ার করেনা । ঠিক মত ফোন করেনা । মাঝে মাঝে শুভ্রা ফোন দিলেও ইচ্ছে করে রিসিভ করেনা ।যদিও রুদ্র সবকিছুর পিছনে কোনো না কোনো অজুহাত দেখায় কিন্তু শুভ্রা বুঝতে পারছে এই রুদ্র 
আর আগের রুদ্রটি নেই ।নাহ ! এভাবে আর কতদিন? তাকে একটা কঠিন সিদ্ধান্তে আসতেই হবে ।শুভ্রা রুদ্রকে ফোন দেয় 
-হ্যালো
-হ্যালো ।শুভ্রা !কেমন আছো তুমি ?
-কি আমাকে চিনতে পারছো ?
-কি বলো এসব ? তোমার সাথে তো গতকাল ও কথা হলো 
-গতকাল কথা হয়নি । শুধু মাত্র একটা এস এম এস দিয়েছিলে তুমি ।রুদ্র ! খুব গুরুত্ব পূর্ণ কিছু কথা বলার আছে ।কাল বিকেল পাঁচটায় চন্দ্রিমা উদ্যানে দেখা হবে ।রাখি ।বাই ।
রুদ্র কিছু বলার আগেই শুভ্রা ফোন রেখে দিলো 
( পরের দিন বিকেল পাঁচটা )
-শুভ্রা ! তোমাকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে ।
-রুদ্র !আমি খুব সাধারন একটা মেয়ে ।আমার খুব বেশি চাহিদা নেই । আমার ভালোবাসার মানুষটি আমাকে অনেক বেশি ভালবাসবে ।এর থেকে বেশি কিছু চাই না ।কিন্তু তুমি ইদানিং আমাকে অ্যাভয়েড
করছো ।হয়তো আমি এখন তোমার কাছে বোরিং হয়ে গেছি ।তাই আমি চাচ্ছি তোমাকে এই বোরিং কন্ডিশন থেকে মুক্তি দিতে ।হয়তো আজকের পর আমাদের আর কোনদিন দেখা কিম্বা কথা হবে না 
-এসব কি বলছো শুভ্রা ? দেখো ! আমি একটা পত্রিকায় লিখালিখির কাজ পেয়েছি ।তাই কিছুটা ব্যস্ত থাকতে হয় । আমি তোমাকে অ্যাভয়েড করছিনা ।এটা তোমার মনের ভুল 
-শোনো ! এসব ফালতু যুক্তি । গার্লফ্রেন্ডকে দিনে অন্তত একবার ও যদি ফোন দিতে না পারো তাহলে রিলেশন করার কোনো মানে নেই ।তোমার তো ইদানিং মেয়ে ভক্ত ও বেড়ে গেছে ।রিমি নামে একটা মেয়ে 
তোমাকে রাতে ফোন দিয়ে কবিতা শোনে তাও আমি জানি । অস্বীকার করতে পারবা ?
-না করছিনা । কিন্তু ও মাত্র তিন চার দিন আমাকে ফোন দিয়েছিল ।ওর মন খুব খারাপ ছিল বলে মাত্র একদিন ওকে কবিতা শুনিয়েছিলাম ।তাও অনেক জোরাজুরি করেছিল বলে ।
-রুদ্র ! তুমি ধরা খেয়ে গেছো । তোমার সাথে আমি আর সম্পর্ক রাখতে চাচ্ছিনা ।আই থিংক ইটস নট ওয়ারকিং অ্যানিমোর ……খোদা হাফেয 
-জানো শুভ্রা !যেদিন তোমাকে প্রথম দেখেছিলাম তখন যেমন ভালবাসতাম এখন তার থেকেও হাজার গুন বেশি ভালোবাসি ।তাইতো তোমার উপর অনেক খানি নির্ভার হয়েছিলাম। যে কোনো অবস্থায়ই তুমি 
আমাকে বুঝবে এটাই আমার বিশ্বাস ছিল তোমার প্রতি ।খুব কষ্ট লাগছে এই ভেবে যে তুমি আমাকে এতদিন পর ও বুঝতে পারলে না । যাই হোক ভালো থেকো বন্ধু ! অনেক অনেক ভালো ।
রুদ্র শুভ্রাকে পিছনে রেখে হাঁটা শুরু করলো ।রুদ্রর চোখ পানিতে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে ।বুকের মধ্যে খুব মোচড় দিচ্ছে । এত কষ্ট হচ্ছে কেন ?
রুদ্র ধড়মড় করে ঘুম থেকে জেগে উঠলো ।ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে ।বোতলের ছিপি খুলে ঢকঢক করে পানি খাচ্ছে সে ।কি ভয়াবহ স্বপ্ন !কখনো সে এমন হতে দেবে না । এখন শুভ্রা কে ফোন 
দেবে সে ।ভোর হওয়া পর্যন্ত সারারাত কথা বলবে পাগলীটার সাথে ………………।।

Gallery

“চোখের ভাষা ” – Mezba Uddin Gazi-র ব্লগ

                                                                   (১)

ধ্যাত ! কিছুদিন যাবৎ আনিশাকে নিয়ে এত ভাবছি কেন ? ক্লাস করার ফাঁকে ফাঁকে ওর দিকে তাকানো আমার নিত্য দিনের অভ্যাসে পরিনত হয়েছে । মাঝে মাঝে ওর সাথে আমার চোখাচোখি হলে  যত দ্রুত সম্ভব চোখ সরিয়ে নেই । ইঞ্জিনিয়ারিং পরার যোগ্যতা আমার কখনই ছিলনা । স্কুল ,কলেজ লাইফে বরাবরই নরমাল ছাত্র ছিলাম কিন্তু কিভাবে যে চাঞ্ছ পেলাম ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটিতে সেটাই বুঝলাম না । নাহ, শিক্ষামন্ত্রীকে  বলতে হবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে । কিছুই বুঝিনা ক্লাসে ।কয়েকদিন খুব মনোযোগ দিয়ে লেকচার বোঝার চেষ্টা করছি কিন্তু একটু বেখেয়াল হলেই আর ধরতে পারিনা । যেখানে স্যার কি বলছে তাই বুঝিনা সেখানে যখন কিছু পোলাপাইন স্যারকে লেকচার এর উপর প্রশ্ন করে বসে তখন সত্যিই নিজেকে খুব অসহায় লাগে । এমনি ক্লাসে মনোযোগ নাই তার মধ্যে আবার আনিশা ! ইশ! মেয়েটা যদি একবার বুঝে যায় আমি ওর দিকে তাকিয়ে থাকি তাহলে ডিপার্টমেন্টে আর মুখ দেখাতে পারবোনা। যতদূর জানি কোন  ছেলে ক্যামন ,এসব নিয়ে মেয়েরাও নিজেদের মধ্যে অনেক হাসাহাসি করে আর আমি এম্নিতেই ক্লাসে কেব্লাকান্ত নামে পরিচিত তাই আনিশার মতো এত সুন্দর একটা মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকি বেপারটা জানাজানি হলে আর কাউকে কষ্ট করে মিরাক্কেল দেখা লাগবেনা ।আসলে আমার কি দোষ ? জনৈক জ্ঞানী বলেছেন , বৎস ! আশা করিলে উত্তম আশাই করো ।

                                                                        (২)

আজও তাকিয়ে আছি আনিশার দিকে । সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে আনিশাও দুই তিনবার তাকিয়েছে । তবে এটা কি আসলেই মজার ব্যাপার কিনা তাও জানিনা । তবে যতবারই ওর সাথে আমার চোখাচোখি হয় বুকের মধ্যে ক্যামন জানি একটা  ধাক্কা লাগে । নাহ!  এভাবে আর কতদিন ? যেভাবেই হোক ওর সাথে আমাকে কথা বলতেই হবে ।মনের সকল সাহস একত্রিত করে এগিয়ে গেলাম আনিশার দিকে । আনিশা , শোন  ! আনিশা খাতায় নিচু হয়ে কি যেন লেখছিল । খুব শান্তভাবে লেখাটি বন্ধ করে আমার দিকে তাকিয়ে বলল , কি ? বল ? আমি তখন এত নার্ভাস ফীল করলাম যে আমার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল ।তবুও অনেক কষ্টে বললাম , আসলে আমার আগামীকাল জন্মদিন । তাই একটা ছোটো পার্টির আয়োজন করছি “অভিলাষ ” ফাস্টফুডে ।তুই যদি আসিস তাহলে অনেক খুশী হবো । আনিশা একটু মুচকি হাসি দিয়ে বলল; ক্লাস এর সবাইকেই ইনভাইট করসিস  নাকি ? আমি নাবোধক মাথা ঝুঁকলাম । আনিশা বলল , আচ্ছা দেখি চেষ্টা করব যেতে ।আমি বললাম , বিকাল ৫ টায় কিন্তু কেক কাটবো , তুই চলে আসিস ।  আমি আনিশাকে জিজ্ঞেস  করলাম ,তুই  আমার মোবাইল নম্বর জানিস তো  ? আনিশা হেসে বলল , নাহ ,জানিনা । আমি নম্বর দিয়ে বললাম , কোনো প্রয়োজন হলে একটা কল দিস  ।

                                                                                (৩)

৫ টা বাজলো । আমার সাত আট জন বন্ধু আর আমি “অভিলাষ ” ফাস্টফুডে  কেক নিয়ে বসে আছি । রাহাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, দোস্ত আমার মনে হয়না ও আসবে । জীবনে কোনদিন ওর সাথে কথাও বলিসনি তুই আর তোর প্রথম রেকুএস্টই কি রাখবে ? মেয়েরা এত সিম্পল না রে দোস্ত ।ওদের চিন্তা ভাবনা জটিল এবং কঠিন । আমি এক রাশ আশা নিয়ে কাঁচের জানালা দিয়ে বাইরে রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছি । আর বিজ্ঞের মতো বললাম ;নাহ দোস্ত ! আমার মন বলছে ও আসবেই! কিন্ত এটা তো আর গল্প সিনেমা নয় যে নায়িকা শেষ সময়ে এসে হাজির হবে । কিছক্ষন পর এক বন্ধু বলে ওঠে দোস্ত আমার একটু পর টিউশনি আছে ।কেক কাটলে কাট নাইলে জাইগা । কি আর করা এক প্রকার মন খারাপ করেই কেক কাটলাম । কতটুকু যে মন খারাপ হয়েছিল পরে যখন ফেইসবুকে পিকচার আপলোড দিয়েছিলাম তখন বুঝেছিলাম ।নিজেকে দেখে মনে হচ্ছিল একটু পর আমার ফাঁসি হতে যাচ্ছে । সেদিন রাতে মন খারাপ করে আমাদের ক্যাম্পাসের দীঘির পাড়ে বসে আছি ।জায়গাটা খুব নিরিবিলি বলে আমার যখন মন খুব খারাপ থাকে তখন এখানে এসে বসে থাকি । সেদিন রাতে আকাশে অনেক তারা ছিল ।আর চাঁদ টা একটু পর পর মেঘের আড়ালে লুকোচুরি খেলছিল ।তারাগুলোকে দেখে মনে হচ্ছিল এক একটা ফানুশ ।হঠাৎ আমার মোবাইলটা ভাইব্রেট করে উঠলো । দেখি আননউন নম্বর থেকে একটা ম্যাসেজ এসেছে ।ম্যাসেজে লেখা “sorry!আসলে একা একা তোর বার্থডে পার্টিতে যাওয়া ক্যামন জানি দ্যাখায় ।তাই যাওয়া হয়নি । মন খারাপ করিস না । বুঝতে বাকি রইলনা কার ম্যাসেজ এটি । যাক প্রাপ্তির খাতায় এতটুকু যে আমার সপ্ন রানীর ফোন নম্বর এখন আমার জানা ।

                                                                                      (৪)

ক্লাসে মোটামুটি কানাঘুষা হয়ে গেছে যে আমি আনিশাকে ভালোবাসি ।আনিশার সাথে আমার যদিও প্রতিদিনই ফোনে কথা হয় কিন্তু কোনদিন নরমাল বন্ধুত্তের বাইরে অন্য ধরনের কথা হয়নি । যখনি একটু বাঁদরামি করতে যেতাম তখনি কড়া শাসন ,হুমকি , মাঝে মাঝে শাস্তিও পেতে হত ।শাস্তি গুলো ছিল একদিন থেকে শুরু করে একমাস কথা না বলা । প্রত্যেকবারই অনেক উল্টা সোজা বুঝিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেই । এভাবেই চলতে থাকে আমাদের বন্ধুত্ব । একবার আনিশা আমাকে বলল , দোস্ত শোন ! আমাকে নিয়ে অন্য কিছু ভাবিস নাতো আবার ? আমি কিছুটা ঢোক গিলে বলি , আরে ধুর !আমি কি কখনো এসব কিছু বলেছি ? আমার সাথে তোর কি যায় ? তোর মতো এতো সুন্দরী মেয়ে কি আর আমার মতো হাদারামের জিএফ হবে ! তখন আনিশার কণ্ঠে পরিতৃপ্তির সুর , আমি সুন্দরী ? তোকে কে বলছে ?

                                                                                           (৫)

আজ ভ্যালেন্টাইন ডে । তাই ক্লাস শেষে আনিশার সামনে গিয়ে ওকে সরাসরি প্রপস ই করে বসলাম । ফল তো কিছুই হলো না ।যা হল সব সাইড ইফেক্ট । মেয়ে সুন্দর করে আমাকে বলল , আজকের দিনটা তোর জন্য খুব স্পেসিয়াল ,তুই কি জানিস ? আমি না বুঝেই একটা ভ্যাবলা মার্কা হাসি দিলাম । মনে মনে ভাবলাম ,যাক মেয়ে অবশেষে রাজি হইছে । তারপর আনিশা আমাকে অবাক করে দিয়ে বলল , আজ থেকে তোর সাথে আমার সকল ধরনের কথা বার্তা বন্ধ ।বুজছিস? আমার হাসি এক নিমিষে মিলিয়ে গেল ।অম্লান বদনে বললাম বুজছি ।এরপর আর কোনো বুঝেই সে বোঝেনা । কতবার ক্ষমা চাইলাম , লোকচক্ষুর অন্তরালে কান ধরলাম কিছুতেই কিছু আসে যায় না । পাথর মানবীর মন কিছুতেই গললো না । বন্ধুরা পরামর্শ দিলো আনিশার বার্থডেতে স্পেসিয়াল কিছু করতে । ওর বার্থডে রাত ১২ টায় ওর হল এর সামনে গিয়ে মোম দিয়ে ” happy birthday to dear anisha ” লিখলাম ।কিন্তু বদমাশ  বাতাস টাই সব গরমিল করে দিচ্ছিল ।একটু পর পর এক একটা মোমের আগুন নিভে যাচ্ছিল । সেই আগুন জ্বলাতে ব্যস্ত ও চিন্তিত আমার মুখখানা কি একবার ও আনিশা দেখেছিলো কিনা জানিনা । তবে পরের দিন আনিশা আমাকে একটু হাসি মুখে বলল , আচ্ছা এসব পাগলামির মানে কি ?আমি ভাবলাম, মেয়ে আমার সাথে কতদিন পর কথা বলল । এই তো সুযোগ এইবার আমাকে পরের ধাপে আগাতে হবে । ক্লাস শেষে আমি আনিশাকে বলি , দোস্ত ! তুই তো আমার সাথে বন্ধুত্ব আর করবিনা ,তাইনা ? তাহলে শুধু আমার একটা অনুরোধ রাখবি ?আনিশা বলে ,হুম আমার সাথে বন্ধু হতে চাওয়া ছাড়া অন্য কোনো অনুরোধ রাখার চেষ্টা করবো। আমি বললাম , তাহলে দোস্ত ;শেষ বার এর মতো আমি তোর সাথে আজ সারদিন ঘুরতে চাই । এরপর আর কোনদিন তোর বন্ধু হতে চাইবনা ,কথা দিলাম । আনিশা কি বলবে বুজতে পারছেনা ।আর আমি নাছোড় বান্দার মতো pz plz plz বলেই যাচ্ছি ।অবশেষে আনিশা রাজি হলো।

                                                                                     (৬)

জীবনে ছোটবেলা থেকে একটা ইচ্ছা ছিল আমি বিয়ে করে ঘোড়ার টমটম গাড়িতে করে বউ নিয়ে আসবো ।কিন্তু বিয়ের আগেই যে কাউকে নিয়ে  টমটম গাড়িতে চড়তে হবে বুঝিনি । আইডিয়াটা গতকাল রাতে করা । গাড়িতে আনিশা ;আমি আর কিছু রঙ্গিন কাগজে মোড়ানো গিফট । একটা একটা করে হাতে দিচ্ছি আনিশার আর আনিশা অবাক চোখে খুলে দেখছে । প্রথম  গিফট বক্স খুলে দেখল ওর প্রিয় জীবনান্দ দাশের  কবিতা সমগ্রের বই ।বইটা হাতে নিয়ে  আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল । এরপর একে একে এক জোড়া কানের দুল;পায়েল , গোল্ডেন কালার এর  ঘড়ি ;একটা সাদা পরীর পুতুল ; আরেকটা সোপীচ ছিল যেটাতে একটা রাজকুমার আর একটা রাজকুমারি একটা সাদা ছাতার নিচে একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে আর তাদের চারপাশে তুষার পাত হচ্ছে ( এই সোপীচ টা আমার এক ছাত্রী আমাকে একসময় গিফট করেছিল ,তাই সেই ছাত্রির কাছে মনে মনে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি  );রঙ বেরঙ এর বেলুন আর কার্টুন ছিলও সর্বশেষ আকর্ষণ । বেলুন ফুলাতে গিয়ে আবিস্কার করলাম ,জীবনে একটা ব্যাপারে আমি ভালই পারদর্শী ।আনিশাকে নিয়ে রয়্যাল চাইনিছ রেস্তোরাতে গেলাম ।সেখানে কেক কাটলাম আর লাঞ্চ করলাম । তারপর আসার সময় ওর হাতে এক গুচ্ছ গোলাপ আর  একটা চিরকুট ধরিয়ে দিলাম । চিরকুটে লেখা ছিল

                                                                            শুনেছি আমারে ভালই লাগে না,

 

                                                                            নাই বা লাগিল তোর,

 

                                                                           কঠিন বাঁধনে চড়ন বেড়িয়া

 

                                                                            চিরকাল তোরে রব আঁকড়িয়া

 

                                                                          লোহার শিকল ডোর।

 

                                                                             তুই তো আমার বন্দী অভাগিনী

 

                                                                              বাঁধিয়াছি কারাগারে,

                                                                          প্রাণের শৃঙ্খল দিয়েছি প্রাণেতে

 

                                                                          দেখি কে খুলিতে পারে”। …………..

                                                                                 (৭)

আমি এখন আর ওর দিকে আড়চোখে তাকাইনা । আসলে সত্যি কথা বলতে কি আড় চোখে আর তাকানো লাগেনা ।কারন একে অপরের দিকে আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এম্নিতেই তাকিয়ে থাকি ……………………………………………………………………।

Bangla

Bangla (Photo credit: Wikipedia)

Gallery

Mezba Uddin Gazi-র ব্লগ

আজ ১৪ ই ফেব্রুয়ারী । শুভ্রা রুদ্রের পাশাপাশি হাঁটছে ।রুদ্র ছেলেটা তাকে প্রচণ্ড ভালোবাসে । তবুও অচেনা একজনের কথা বারবার তার মাথায় ঘুরছে । গত একমাস যাবৎ একটি ছেলে প্রতিদিন শুভ্রার 
বারান্দায় একটি করে লাল গোলাপ আর একটি কবিতা রেখে যায় । আজ ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ করতে করতে যখন বারান্দাতে গিয়ে দাঁড়ালো তখন যা দেখল তা দেখেই সেই অচেনা মানুষটির জন্য একটা
কষ্ট অনুভব করছে সে । একটা সাদা কাগজে রক্ত দিয়ে কিছু লিখা যা দূর থেকেই বুঝতে পারলো সে ।কাছে গিয়ে কাগজ টি হাতে নিয়ে কবিতাটি এক নিঃশ্বাসে পড়া শুরু করলো …
তোকে ভালোবাসি রে বোকা ,অনেক ভালোবাসি ;তোকে আকাশ বানিয়ে তোর অস্তিত্তে মিশি;
তোকে মনোরাজ্যের রানী বানিয়ে রাজ্য শাসন করি ;তোকে ভালো বানিয়ে মন্দের সাথে লড়ি ;
তোকে জীবন বানিয়ে মৃত্যু নদীতে সাঁতরে ঘুরি ;তোকে স্বপ্ন বানিয়ে ইচ্ছে লোকে জুড়ি ;
তোকে কাব্য বানিয়ে রাতদিন জপি ;তোকে দেবী বানিয়ে নিজেকে সপি ;
তোকে বৃষ্টি বানিয়ে শেষ রাতে ভিজি ;তোকে রোদ বানিয়ে নির্জন দুপুর সাজি ;
তোকে আশা বানিয়ে হতাশা গুলোকে বিসর্জি;তোকে বিশালতা বানিয়ে একমুঠো আশ্রয় আর্জি;
তোকে বৃক্ষ বানিয়ে তোর ছায়ায় ক্লান্ত আমি ঘুমি;তোকে তীর বানিয়ে ঢেউ হয়ে তোর চরন চুমি ;
তোকে মেঘ বানিয়ে দেই আকাশ নদী পাড়ি;তোকে সুর বানিয়ে হই হৃদয় হরণকারী ;
তোকে রঙধনু বানিয়ে রঙিন স্বপ্ন বুনি;তোকে রাত বানিয়ে অজস্র তারা গুনি ;
তোকে ব্যাথা বানিয়ে পরম যত্নে অনুভবি;তোকে আয়না বানিয়ে হই প্রতিচ্ছবি;
তোকে পথ বানিয়ে অজানাতে মিলি ;তোকে হাসি বানিয়ে কষ্ট গুলোকে ভুলি ;
তোকে দৃষ্টি বানিয়ে রঙ তুলি আঁকি ;তোকে সৃষ্টি বানিয়ে জল কাদা মাখি ;
তোকে পূর্ণিমা বানিয়ে রহস্য দিয়ে ঘিরি ;তোকে শৈশব বানিয়ে স্মৃতির জানালায় ভিরি ;
তোকে কুয়াশা বানিয়ে শিশির ভেজা ঘাসে হাটি;তোকে প্রেম বানিয়ে অলীক কল্পনা আঁটি ………………
ইস!কি ভয়ঙ্কর সুন্দর !
-এই শুভ্রা !চুপ কেন ? কি ভাবছো ?
হঠাৎ রুদ্রের কথায় সম্বিত ফিরে পেল শুভ্রা 
-কিছুনা তো । আচ্ছা তোমাকে একটা প্রশ্ন করি ?
– হুম করো ।
-তুমি আমাকে কেমন ভালোবাসো ?
-অনেক অনেক অনেক ভালোবাসি 
-তোমার থেকে কেউ যদি আমাকে বেশি ভালোবাসে ?
-জীবনেও না । আমার থেকে কেউ তোমাকে বেশি ভালবাসতে পারবেনা 
-ধরো , আসলেই যদি কেউ ভালোবাসে ?
-এই শুভ্রা ! এই ! কি হইছে তোমার ? আমি কিন্তু ভয় পাচ্ছি । আমাকে ছেড়ে কোথাও চলে যাবা নাতো ?
-হা হা হা ! বোকা কোথাকার ! তুমি আমাকে যথেষ্ট ভালোবাসো ।তোমাকে ছেড়ে কখনো কোথাও যাবো না । কিন্তু জানো ! মাঝে মাঝে খুব ভয় হয় । আমাদের ভালোবাসার সম্পর্ক অন্য কারো ভালোবাসার
কাছে যদি হেরে যায় ?
-এই মেয়ে খাম খেয়েলি রাখো । এই তোমার দুচোখ ছুঁয়ে বলছি তা কখনো হতে দেবো না 
পরিশেষ : শুভ্রা আজ সারা রাত ঘুমাতে পারছেনা । কারন রুদ্র যখন তার দুচোখ ছুঁয়ে দিয়েছিল তখন রুদ্রের শার্ট এর হাতা নিচে নেমে ওর কনুইতে গিয়ে ঠেকেছিল । আর তখনই রুদ্রের হাতে ছুরি দিয়ে 
খোঁদাই করা শুভ্রা নামটি দেখতে পেয়েছিল সে । রক্ত দিয়ে লিখা কবিতার উৎস তখনই উদ্ঘাটন হলো ………
( বিঃদ্রঃ কবিতাটি আমার লিখা “তোকে ” নামক কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে )
(মেজবা,১ই জুন ,২০১৩